মালদা

এবার বদল হচ্ছে মানিকচক ঘাট দিয়ে নদী পথে যাতায়াত করার ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি, প্রশান্ত দাস, মালদাঃ বর্ষার সময় নদী কেন্দ্রিক জায়গাগুলির মধ্যে কিছু কিছু জায়গা এমন রয়েছে যা জলমগ্ন হয়ে পরে আর তাতে সমস্যায় পরতে হয় ওই সমস্ত এলাকার মানুষদের। ঠিক তেমনি বর্ষা আসতেই মালদা জেলার প্রধান নদী গঙ্গাঁ ও ফুলহারা ভয়াবহ আকার নেয়। নদী পথে পারাপার হওয়া অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে ওঠে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। এমনকি অনেক সময় নদী পারাপার করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের দুর্ঘটনার কবলেও পরতে হয়। প্রতি বছরই এমন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন বাসিন্দারা। এমনকি বহু মানুষ প্রাণ হারান। তাই নদীর ঘাট গুলি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।ইতিমধ্যেই রাজ্য পরিবহণ দপ্তর মাণিকচকে একটি লঞ্চের ব্যবস্থাও করেছে। গঙ্গাঁ ও ফুলহারা নদীর উপর ১১টি জেটি রয়েছে। এই জেটি গুলির মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক হাজার হাজার বাসিন্দা নৌপথে যাতাযাত করে। রাজ্য সরকারের পরিবহন দপ্তর জেলার এই  ১১টি জেটি সংস্কারের জন্য জেটি প্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। এই জেটিগুলিতে থাকবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডুবুরি। থাকবে লাইফ জ্যাকেট। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নৌকার মাঝিকেও। অতিরিক্ত যাত্রী ও পন্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও থাকবে নজরদারি। নদী পথে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলা করার জন্য ইতিমধ্যেই লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে পরিবহন দপ্তরের উদ্যোগে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করে কেনাও হয়েছে লঞ্চ।খুশি বাসিন্দারা।

            মালদা জেলার সহকারী সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল জানান, নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা নদী পারাপারের সময় প্রায় দিন তাদেরকে দুর্ঘটনার সন্মুখিন হতে হত। তাই বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল। এই দুর্ঘটনা রুখতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হক। আর সেই দাবি পুরন হল তাদের। ইতি মধ্যেই দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে একটি লঞ্চ ও ১১ টি জেটির ব্যাবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেকটি জেটি তৈরি করতে ৫ লক্ষ টাকা করে ব্যয় করা হবে। এবং পরবর্তীতে আরও অন্য কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ কার্যকারী হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি এলাকাবাসী। এই কাজ হওয়ায় মানিকচকবাসীরা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

            মালদা জেলার পরিবহন দপ্তর কমিটির সদস্য দুলাল চন্দ্র সরকার (বাবলা) জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেটি গুলিকে নিরাপদমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন জেলায় যে সমস্ত নদী পথ আছে এসি সমস্ত এলাকায় প্রায় দিন কোন না কোন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তাই। সরকারের পক্ষ থেকে সেই সমস্ত জায়গাগুলি বেছে নিয়ে তার সুরক্ষার জন্য পরিবহন দপ্তরের আওতায় এনে তার কাজ শুরু করা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। এর মধ্যেই মালদা জেলার ১১ টি ঘাট চিনহিত করা হয়েছে। আর এই সমস্ত বড় বড় ঘাট গুলোকে জেটি তৈরি করা হবে। মানিকচকে একটি লঞ্চ দেওয়া হয়েছে ও ১১ টি জেটি তৈরি করার টাকা দেওয়া হয়েছে। এবং আগামীতে আরও কিছু ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

            এদিন মালদায় আম উৎসব ও প্রদর্শনীতে এসে পর্যটক মন্ত্রী জানান, গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য পরিবহণ দপ্তর মাণিকচকে একটি লঞ্চের ব্যবস্থাও করেছে।ফলে সব মিলিয়ে মালদায় পর্যটকদের টানতে কোনো আসুবিধা হবে না বলে দাবী গৌতম দেবের। তিনি বলেন, পাহাড়ে অস্থিরতার কারণে অনেক পর্যটক সেখানে যেতে চাইছেন না। কিন্তু তারা যেন বিকল্প হিসাবে ডুয়ার্স এবং মালদার মতো বিভিন্ন জায়গায় যেতে উৎসাহিত বোধ করেন সে ব্যাপারে আমাদের সরকার উদ্যোগী।